বিজয় দিবসের আগেই বিদায়!

একাত্তরে স্বাধীনতা ও মানবতাবিরোধী জামায়াত নেতা কামারুজ্জামান বাংলাদেশের ৪৪তম বিজয় দিবস দেখতে পারছেন না। কারণ, তার আগেই মুক্তিযুদ্ধবিরোধীর ফাঁসির রায় কার্যকর করে জাতিকে আরেকবার কলঙ্কমুক্ত করতে চায় বর্তমান সরকার।

সরকারের একটি উচ্চ পর্যায়ের সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছে, কামারুজ্জামান যদি রিভিউ পিটিশনের সুযোগও পান তবে তা কাদের মোল্লার মতো সংক্ষিপ্ত সময়েই নিষ্পত্তি হবে। এরপর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করা হলেও রাষ্ট্রপতি সময়ক্ষেপণ করবেন না বলে সরকারের দায়িত্বশীল ওই সূত্রটির বিশ্বাস।

এরই মধ্যে আদলতের রায় পৌঁছানো হবে কারাকর্তৃপক্ষের কাছে। তারা যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকর করে বিজয় দিবসের আগেই জাতিকে আরেকবার গ্লানি মুক্তির সুযোগ করে দেবে বলে মনে করেন তিনি।

সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকারি ওই আওয়ামী লীগ নেতা আরো বলেন, মানবতা বিরোধী অপরাধে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসি খুব শিগগিরই কার্যকর হবে। কারণ, এ রায় নিয়ে রিভিউ করার কোন সুযোগ নেই। তাই তার ফাঁসি কার্যকরে আর কোন বাধা নেই। এখন সরকারের দায়িত্ব দ্রুত রায় বাস্তবায়ন করা।

রায় ঘোষণার পর অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানান, এই রায়ে রিভিউ করার কোনোই সুযোগ নেই। কাদের মোল্লাও রিভিও করার জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু, আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দেন। তিনি বলেন, বিশেষ আইনে কামারুজ্জামানের বিচার হয়েছে। তাই রিভিউ কোন সুযোগ থাকবে না। রায় কার্যকর সম্পর্কে তিনি জানান, পুর্নাঙ্গ রায় কারাগারে গেলেই কারা কর্তৃপক্ষ তা কার্যকরের উদ্যোগ নেবেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ জানিয়েছেন, এই রায় নিয়ে লিভ টু আপিল কিংবা রিভিউ পিটিশন দাখিল করার কোনই সুযোগ নেই। এখন কামারুজ্জামান রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাইতে পারেন। সেক্ষেত্রে রায়ের কপি বিচারিক অঞ্চলের জেলা প্রশাসকের কাছে প্রেরণ করা হবে। রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক নিয়ম অনুযায়ী রায়ের কপি এবং কামারুজ্জমানের প্রাণ ভিক্ষার আবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবেন।

কেবল রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করলে বা প্রাণ ভিক্ষার আবেদন মঞ্জুর করলেই তিনি রেহাই পেতে পারেন । নয়তো আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে যে কোন দিন তার ফাঁসি কার্যকর করা হবে। সেই হিসেবে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের আইে কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর করা হবে।

রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং আসামী পক্ষের আইনজীবীরা ফাঁসির আদেশ বহাল নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, আপিল বিভাগ ফাঁসির আদেশ বহাল রাখায় এই রায় আর রিভিউ করার সুযোগ নেই। অন্যদিকে আসামী পক্ষের আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেছেন, তারা এই রায় রিভিউ করার জন্য আবেদন করবেন। এখন তারা সেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আইনজীবীরা জানান, রিভিউ হচ্ছে যে আদালত রায় দিয়েছেন, ওই আদালতে রায়টি পুনরায় পর্যালোচনা বা পুনর্মূল্যায়ন করার জন্য আবেদন। কিন্তু, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় রিভিউ করার কোন সুযোগ নেই।

এই রায়ে সংক্ষুব্ধ হয়েছেন মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী কামারুজ্জামানের ছেলে ইকবাল হাসান। তার বাবার ফাঁসির রায় তিনি মেনে নিতে পারছেন না।

রায় ঘোষণার পর আদালত চত্তরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, তার বাবা ন্যায় বিচার পাননি। তাই তারা এই রায় মানেন না। তিনি বলেন, আমার বাবা কোন যুদ্ধাপরাধ করেননি। পরিকল্পিত ভাবে তার বাবাকে ফাঁসি দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। তাই রায়ের বিরুদ্ধে তারা রিভিউ পিটিশন দাখিল করবেন।



মন্তব্য চালু নেই