ভোলায় ২০১৫ সালে ৬মাসে ৮শ’ ৬০টি অপরাধ সংঘটিত

ভোলার ৭ উপজেলায় ৯টি থানায় ২০১৫ সালে ৬ মাসে ৮শ’ ৬০টি অপরাধ হলেও বেসরকারী ভাবে অপরাধের চিত্র আরো বেশী। ত এরমধ্যে খুন ১৪টি, নারী নির্যাতন ৮৭টি, ধর্ষণ ৪২টি, মাদক ৫৬টি, অপহরণ ১৫টি, পুলিশ আক্রান্ত ১টি, এডিস নিক্ষেপে ১টি, অস্ত্র আইনে ১টি, চোরা চালানে ৩টি ও ডাকাতির ও দস্যুতা অভিযোগে ১৫টি, বিষ্ফোরকে ৩টি, মোটরযান দুর্ঘটনায় ৩টি ও চুরি ৫৪টি হয়েছে।

ভোলা জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী ভোলা সদর উপজেলায় জানুয়ারীতে ৩৪টি, ফেব্রুয়ারীতে ৩৬টি, মার্চে ৩৫টি, এপ্রিলে ৩৫টি ও মে’তে ৪৩টি, জুন মাসে ৪০টিসহ মোট ২শ’ ২৩টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।

দৌলতখান উপজেলায় জানুয়ারীতে ৯টি, ফেব্রুয়ারীতে ১০টি, মার্চে ৮টি ও এপ্রিলে ৯টি ও মে’তে ১৩টি, জুন মাসে ১৫টিসহ মোট ৬৪টি সহ অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।

বোরহানউদ্দিন উপজেলায় জানুয়ারীতে ২৯টি, ফেব্রুয়ারীতে ২৯টি, মার্চে ৩৩টি, এপ্রিলে ২৮টি ও মে’তে ৩৫টি,জুন মাসে ৩১টিসহ মোট ১শ’ ৮৫টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।

লালমোহন উপজেলায় জানুয়ারীতে ১৭টি, ফেব্রুয়ারীতে ১৮টি, মার্চে ২৮টি, এপ্রিলে ১৮টি ও মে’তে ২৬টি, জুন মাসে ২৬টিসহ মোট ১শ’ ৩৩টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।

তজুমুদ্দিন উপজেলায় জানুয়ারীতে ৮টি, ফেব্রুয়ারীতে ১১টি, মার্চে ১৩টি, এপ্রিলে ৯টি ও মে’তে ১২টি , জুন মাসে ১৪টিসহ মোট ৬৭টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।

চরফ্যাশন উপজেলায় জানুয়ারীতে ২৩টি, ফেব্রুয়ারীতে ২৩টি, মার্চে ২৬টি, এপ্রিলে ২৬টি ও মে’তে ২৫টি, জুন মাসে ২৬টিসহ মোট ১শ’৪৯ টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।

মনপুরা উপজেলায় জানুয়ারীতে ২টি, ফেব্রুয়ারীতে ১টি, মার্চে ২টি, এপ্রিলে ৩টি ও মে’তে ২টি, জুন মাসে ৩টিসহ মোট ১৩টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।

অন্যদিকে নব গঠিত শশীভূশণ থানায় জানুয়ারীতে ১৫টি, ফেব্রুয়ারীতে ১১টি, মার্চে ১৬টি, এপ্রিলে ১৫টি ও মে’তে ১২টি, জুন মাসে ১৭টিসহ মোট ৮৭টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।

দক্ষিণ আইচা থানায় জানুয়ারীতে ৯টি, ফেব্রুয়ারীতে ৬টি, মার্চে ৫টি, এপ্রিলে ৪টি ও মে’তে ১০টি, জুন মাসে ৬টিসহ মোট ৪০টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোঃ সেলিম রেজা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত পূর্বক আইনী সহায়তা প্রদানের জন্য অনুরোধ করেছেন। তিনি নারীনির্যাতন,ধর্ষন, মাদক ও অপহরন বিষয় গুলো সামাজিক ভাবে প্রতিরোধে ব্যাপারে সকল মহলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

উল্লেখ্য, ভোলার ৭ উপজেলায় ৯টি থানায় ২০১৫ সালে ৬ মাসে ৮শ’ ৬০টি অপরাধ হলেও বেসরকারী ভাবে অপরাধের চিত্র আরো বেশী। অনেক অপরাধ প্রভাবশালীদের কারণে এবং গ্রাম্য সালিশীর মাধ্যমে থানা পর্যন্ত না গড়িয়ে এলাকায় সমাধান হয়েছে। আবার অনেকে নানান কারণে মামলা করতে সাহস করেনি। জেলা সদর ভোলায় সর্বোচ্চ অপরাধ সংঘঠিত হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। থানা কর্তৃপক্ষ মামলা নিয়ে-ই কি বানিজ্য করছে ? যেখানে জেলার সর্বোচ্চ কর্তা ব্যক্তিরা রয়েছেন এবং আইনশৃঙ্খলার পরিবেশও সুন্দর আছে। তাই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা প্রয়োজন।



মন্তব্য চালু নেই