ভ্যাট আন্দোলনে আসছে লাগাতার কর্মসূচি

নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আইনে প্যাকেজ ভ্যাট পুনর্বহালসহ যৌথ কমিটির সাত সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবিতে আসছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অব্যাহতভাবে বন্ধ রাখাসহ লাগাতার কর্মসূচি ।

ব্যবসায়ীদের দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে আগামি ২ জুন পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তা না হলে দোকান বন্ধ রাখা হবে এবং ব্যবসায়ীদের নিয়ে লাগাতার আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে। এ কথা জানালেন ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবু মোতালেব।

তিনি বলেন, ‘আজ ১ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করলাম। আমরা আগামী ২ জুন পর্যন্ত দেখবো সরকার কি করে। এরপর যদি সরকার আমাদের দাবি মেনে না নেয় তাহলে লাগাতার কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

কর্মসূচির বিষয়ে এফবিসিসিআই পরিচালক আবু মোতালেব বলেন, ‘লাগাতার আন্দোলনের মধ্যে থাকবে অব্যাহতভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা ও রাস্তায় অবস্থান ধর্মঘট, বিক্ষোভ কর্মসূচি ইত্যাদি। তবে আশা করছি সরকার আমাদের দাবি মেনে নেবে।’

এর আগে সোমবার রাজধানীসহ সারাদেশে ব্যবসায়ীরা তাদের নিজ নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে দুপুর ১২ থেকে ১টা পর্যন্ত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখেন। রাজধানীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে ব্যানার নিয়ে সারিবদ্ধভাবে মানববন্ধনে অংশ নেন।

সারাদেশের ১৬৬ চেম্বারসহ সকল ব্যবসায়ী তাদের ওই কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে।

মানববন্ধনে নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আইনে কোন অবস্থাতেই প্যাকেজ ভ্যাট বাদ না নেওয়ার দাবি জানিয়ে ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘নতুন ভ্যাট আইনে সকল স্তরে ১৫ শতাংশ ভ্যাট কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। আজ সারাদেশের ১৬৬ চেম্বার ও সকল ব্যবসায়ী এক সঙ্গে আন্দোলন করছেন। নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে ব্যবসায়ীদের চেয়ে ক্রেতারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নতুন আইনে পণ্য মূল্য উসকে দেওয়ায় ভোক্তা অসন্তোষ বাড়বে। ফলে দেশের ১৬ কোটি মানুষই ভুক্তভোগী হবে।’

এর আগে ২৯ মে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরাম আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মানববন্ধন করার ঘোষণা দেয় ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরাম।

গত ১৪ মে এক সংবাদ সম্মেলন করে ‘ঢাকা দক্ষিণ ব্যবসায়ী ফোরাম’নামে একটি সংগঠন নতুন মূসক আইনে প্যাকেজ ভ্যাট পুনর্বহাল করতে সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়েছিল। সে সময় ব্যবসায়ী সংগঠনটি ঘোষণা দিয়েছিল ২৫ মের মধ্যে প্যাকেজ ভ্যাট পুনর্বহাল না করলে দোকান বন্ধ করে প্রতিবাদ জানানো হবে।

ভ্যাট আইনের বিষয়ে এনবিআর-এফবিসিসিআই যৌথ কমিটির সাত সুপারিশে বলা হয়েছে, সব সরবরাহের (উৎপাদন, ব্যবসা ও সেবা প্রদান) ক্ষেত্রে ৩৬ লাখ টাকা টার্নওভার পর্যন্ত অব্যাহতি প্রদান; এর ধারাবাহিকতায় বার্ষিক টার্নওভার ৩৬ লাখ থেকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত কেবল উৎপাদন পর্যায়ে ৩ শতাংশ পর্যন্ত টার্নওভার কর আরোপ করা হোক। টার্নওভার কর প্রদানকারী ক্রয় করা উপকরণের বিপরীতে মূসক নিবন্ধিত ব্যক্তির কর রেয়াত প্রযোজ্য হোক; ব্যবসায়ী পর্যায়ে বার্ষিক ৩৬ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে টার্নওভারের পরিমাণ নির্বেশেষে ২ শতাংশ হারে মূসক আরোপ করা হোক; উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণে অসমর্থ প্রতিষ্ঠানের করযোগ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে হ্রাসকৃত হারে মূসক আরোপ করা হোক; তবে হ্রাসকৃত হারে মূসক প্রদানকারী ও টার্নওভার কর প্রদানকারী উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণ করতে পারবেন না; নতুন আইনের ধারা ২(৯৭) এর দফা (ক) সব আত্মীয়স্বজনকে করদাতার খেলাপি কর আদায়ের জন্য দায়ী করা যাবে না।



মন্তব্য চালু নেই