মাগুরার জগদল ইউপিতে দোকান বরাদ্দের নামে হরিলুট ॥ ব্যবসায়ীরা বিপাকে

মাগুরা প্রতিনিধি ॥ মাগুরা সদর উপজেলার জগদল ইউনিয়ন পরিষদের অনুমোদন ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে ৫৪টি দোকান বরাদ্দের মাধ্যমে প্রাপ্ত প্রায় ১ কোটি টাকার হদিস মিলছেনা। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম নিজেই এ অর্থ আতœস্বাত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দোকান ঘর বরাদ্দ নেয়া ব্যবসায়ীরা পড়েছে বিপাকে ।

দোকন ঘর বরাদ্দ নিয়াদের মধ্যে গোলাম রসুল, ওলিয়ার রহমান, নাসির, আমিনসহ অন্যরা জানান, আমরা অনেক টাকা দিয়ে এক একটি ঘর বরাদ্দ নিয়েছি। এখন শুনছি এই জায়গা নিয়ে মামলা চলছে। তাছাড়া পরিষদের কোন অনুমোদন ছাড়াই নাকি ঘরগুলো করা হয়েছে। এই নিয়ে আমরা খুব চিন্তায় আছি। নতুন চেয়ারম্যান যদি আমাদের উচ্ছেদ করে তাহলে আমাদের দু’কুলই যাবে।

সাবেক মেম্বর নজরুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম মনু জানান, ইউনিয়ন পরিষদের এক মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয় ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ৬টি দোকানঘর করে ভাড়া দেওয়ার জন্য। সে মোতাবেক কাজ শুরু হলে পরবর্তীতে পরিষদের মিটিংয়ে অনুমোদন ছাড়ায় বিরোধপূর্ণ জমিসহ পরিষদের চারপাশ দিয়ে সাবেক চেয়ারম্যান জহিদুল ইসলাম জাহিদের একক সিদ্ধান্তে আরো ৪৮ টি দোকানঘর করে নিজ আত্মীয়-স্বজনসহ প্রভাবশালীদের কাছে ৯৯ বছরের জন্য পজিশন বিক্রি করেন। যার এক একটি দোকান ঘর ২ লক্ষ টাকা থেকে ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। পরবর্তীতে নির্বাচনে হেরে গেলে তিনি গত মেয়াদে আমরা যারা পরিষদের মেম্বর ছিলাম তাদেরকে বিগত দিনের এলজিএসপি কাজের কথা বলে সাবেক চেয়ারম্যান জাহিদের বিস্বস্ত আছাদ মেম্বও রেজুলেশন খাতায় স্বাক্ষর করিয়ে নেন। পরবর্তীতে জানতে পারি দোকাঘর করা ও পজিশন বরাদ্দের ব্যাপারে রেজুলেশন খাতায় স্বাক্ষর করিয়েছে।কিন্তু ৬টি দোকান ঘর বাদে ৪৮টি ঘরের ব্যাপারে আমরা কিছুই জানিনা।

জমির মামলার বাদি জিরজিস হোসেন লাবলু জানান, মামলাধীন জমিতে ১৪৪ ধারা জারি অবস্থায় সাবেক চেয়ারম্যান জাহিদ সে সময় মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেনকে দিয়ে জোরপূর্বক মাটি ভরাট করে দোকান ঘর করে। বর্তমানে মামলাটি স্বাক্ষী পর্যায়ে আছে।

বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, আমি দায়িত্বভার গ্রহনের পর দেখেছি শুধুমাত্র ৬টি দোকানের অনুমোদন নেয়া আছে। বাকিগুলোর কোন অনুমোদন নেই।

এ ব্যাপারে সাবেক চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জানান, কয়েকজন মেম্বর এ কথা বলতে পারে। ইউনিয়ন পরিষদের মিটিংয়ে ৫৪টি দোকানেরই অনুমোদন নেয়া আছে। কোর্টে মামলা থাকার কারনে সেই রেজুলেশন খাতা আমার কাছে আছে। এ নিয়ে দোকানদারদের বিচলিত হবার কিছু নেই।



মন্তব্য চালু নেই