যৌতুকের জন্য লোহার রড দিয়ে পিটানো হত!

ময়মনসিংহের ভালুকায় বাপের বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা এনে না দেয়ায় শারমিন আক্তার (১৮) নামের এক গৃহবধুকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছে তার পাষন্ড স্বামী আরিফ। আহত ওই গৃহবধুকে ভালুকা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শারমিন একই ইউনিয়নের শিলাসী পাড়া গ্রামের ছফির উদ্দিনের মেয়ে।

গৃহবধূর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ফাল্গুনের ১৫ তারিখ উপজেলার বান্দিয়া গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে আরিফের সাথে একই ইউনিয়নের শিলাসী পাড়ার ছফির উদ্দিনের মেয়ে শারমিন আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় শ্বশুর বাড়ি থেকে যৌতুক বাবদ আরিফকে নগদ ৮০ হাজার টাকাসহ প্রায় এক লাখ টাকার মালামাল দেয়া হয়। বিয়ের পর থেকে বাবার বাড়ি হতে আরো টাকা এনে দেয়ার জন্য স্ত্রী শারমিন আক্তারকে প্রায়ই চাপ দিতে থাকেন স্বামী আরিফ।

এদিকে দোকানে মালামাল তুলার জন্য গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বাবার বাড়ি থেকে ২০ হাজার টাকা এনে দেয়ার জন্য আরিফ তার স্ত্রী শারমিনের উপর চাপ দেয়। কিন্তু বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে রাজি না হওয়ায় ওই দিন সকাল ১১টার দিকে আরিফ তার স্ত্রী শারমিনকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে এবং ওই দিন বিকেল পর্যন্ত দফায় দফায় নির্যাতন চালানো হয় তার উপর। পরে স্বামীর বর্বর নির্যাতনে আহত ওই গৃহবধুকে কোন প্রকার চিকিৎসা না দিয়ে পাশের এক চাচা শ্বশুর তাইজুলের বাড়িতে নিয়ে একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখে তার শ্বশুর কামাল উদ্দিন। ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গৃহবধুর ভাসুর সানু তার চাচা তাইজুলের তালাবদ্ধ ঘর থেকে শারমিনকে উদ্ধার করে স্বামীর বাড়িতে দিয়ে আসেন। কিন্তু পরবর্তীতে আরো নির্যাতনের আশংকায় বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পালিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান ওই শারমিন আক্তার।

পরে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে ভালুকা হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনায় ভালুকা মডেল থানায় মামলা দায়েরে প্রস্তুতি চলছে। শারমিন আক্তারের মা হাসিনা খাতুন জানান, বিয়ের সময় তার মেয়ের জামাতাকে নগদ ৮০ হাজার টাকাসহ এক লাখ টাকার মালামাল দেওয়া হয়েছে। ভালুকা হাসপাতালের চিকিৎসক নাঈমা সুলতানা জানান, ওই গৃহবধুর শরীরে জমাটবাধা রক্তের কালচে অনেক দাগ রয়েছে। তার সুস্থ্য হতে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন-অর-রশিদ জানান, ঘটনাটি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় ওই গৃহবধুর স্বামী আরিফের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।



মন্তব্য চালু নেই