রিমঝিম বৃষ্টিতে কোলাহলে মুখর রাজধানীর হাতিরঝিল

যেকোনো উৎসব বা বিশেষ দিনে কোলাহলে মুখর হয়ে ওঠে রাজধানীর অন্যতম দৃষ্টিনন্দন এলাকা হাতিরঝিল। রাজধানীতে পর্যাপ্ত বিনোদন স্পট না থাকায় দিনে দিনে হাতিরঝিল হয়ে উঠছে অবসর কাটানো ও আনন্দ উপভোগের অন্যতম স্থান। এবার ঈদেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

শুক্রবার রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঝিরিঝিরি বৃষ্টি ঈদের উদযাপনের প্রস্তুতিকে চোখ রাঙাচ্ছিল। বৃষ্টি-বাধা উপেক্ষা করে মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির উৎপাত বন্ধ হয়। স্বস্তি পায় রাজধানীবাসী।দুপুরের পর থেকে ধীরে ধীরে মানুষের আনাগোনা বাড়তে থাকে হাতিরঝিলে।

শনিবার বিকেলে হাতিরঝিলে গিয়ে দেখা গেছে, ঈদ আনন্দ ভাগাভাগির জন্য অনেকেই বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজন নিয়ে এসেছেন। সব বয়সের মানুষ ঈদের আনন্দে মেতেছেন হাতিরঝিলে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো।

ঝিলের নান্দনিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে কেরানীগঞ্জ থেকে মোটরসাইকেলে করে এসেছেন সদ্যবিবাহিত মিসবাহ আহমেদ(২৭) ও জাফরিন ইসলাম(২৪) দম্পতি। জাফরিন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের বিয়ে হয়েছে দুই মাস আগে। বিয়ের পর এটাই আমাদের প্রথম ঈদ।ও(মিসবাহ)ব্যবসার জন্য বেড়ানোর ফুসরত পায় না। আর এবার আমার শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদ গ্রামের বাড়ি গেছে ঈদ করতে। তাই আমরা দুজন দুপুরে খাওয়া-দাওয়া করে এখানে সময় কাটাতে এসেছি।এখানে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে আরো কিছু জায়গায় যাব।’

তিনি আরো বলেন, ‘জায়গাটা সত্যিই সুন্দর। এটাকে আরো পরিকল্পিতভাবে ও দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলা দরকার। যদি ঝিলের পানি পরিস্কার থাকত, নৌকা ভ্রমণের সুযোগ থাকত, তাহলে আরো ভালো লাগত। আসার পর বুঝতে পারছি, যখন বাতাস বইছে তখন কিছুটা দুর্গন্ধ নাকে লাগছে।’

কিছু দূর এগিয়ে গিয়ে কথা হয় মিরপুর-১ থেকে ঘুরতে আসা মিজান উদ্দিনের (৩৮)সঙ্গে। তিনি এসেছেন স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে। মিজান বলেন, ‘আমি এর আগেও এসেছি। কিন্তু আমার স্ত্রী ও সন্তানরা আসেনি। তারা শুধু টিভিতে দেখেছে। তাই এবার ঈদে তাদের নিয়ে এলাম।’

তার স্ত্রী সুলতানা শেফালী জানান, ‘এখানকার আলোকসজ্জা, ওভারপাস ও রাস্তার দুপাশের ঝাউগাছের সারিগুলো টিভিতে দেখে আগ্রহ হয়েছে। তাই ঈদে পরিকল্পনা ছিল এখানে আসার। আমরা নিম্নবিত্ত মানুষ, দেশের বাইরে বা ভেতরে দূরে কোথাও যাওযার ইচ্ছা থাকলেও তো সামর্থ্য নেই।’

এসে কেমন লাগছে,এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এসে তো আরো বেশি ভালো লাগছে। তবে এখানে কিছু ছেলে-মেয়ে অপ্রীতিকর অবস্থার সৃষ্টি করছে। কর্তৃপক্ষ এ দিকে দৃষ্টি দিলে পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর অন্যতম অনুষঙ্গ হবে ঝিলটি।’

দুই ভাগ্নে-ভাগ্নি নিয়ে ঘুরতে এসেছেন যুবক ইমন (২৬)। ভাগ্নি যুথি(৭) ও ভাগ্নে শুভ (৪)। মামা বারবার বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে ক্যামেরাবন্দি করছেন দুজনের ছবি। নিছক ছবি তোলার জন্য নয়,তিনি যেন এই ঈদ আনন্দকেই ফ্রেমবন্দি করতে চান।

এরকম অগণিত মানুষের পদচারনায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে হাতিরঝিল।
তবে আজ (শনিবার) হাতিরঝিলে ঈদ উদযাপন করার সময় পিকআপ ভ্যান উল্টে আটজন আহত হয়েছে।



মন্তব্য চালু নেই