সংসদ এলাকায় কবর, জবাব চাইবে সরকার

লুই আই কান প্রণীত সংসদ ভবনের মূল নকশায় কোনো কবরের চিহ্ন ছিল না। নকশা বহির্ভূত কোনো কবর থেকে থাকলে তার জন্য অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন।

সোমবার বিকেলে দশম জাতীয় সংসদের অষ্টম অধিবেশনে বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে একথা জানান মন্ত্রী।

ফজিলাতুন্নেসা তার অপর একটি তারকাচিহ্নিত প্রশ্নে জানতে চান, লুই আই কানের নকশায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবন একটি অনন্য স্থাপত্য নিদর্শন। এই সংসদ ভবন চত্বরে আটটি কবর গড়ে তোলা হয়েছে। লুই আই কানের মূল নকশা পরিবর্তন করে সংসদ চত্বরে কবর স্থাপনের বিষয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অভিমত কী এবং মূল নকশা অনুযায়ী সংসদ ভবনকে টিকিয়ে রাখতে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কি না।

জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য লুই আই কানের মূল নকশায় ফিরে যাওয়া। মূল নকশায় কোনো কবরস্থান দেখানো হয়নি। যারা পরিবর্তন করেছে তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি মারা গেলে তার করব সংসদ ভবনের সবুজ চত্বরে হবে, এমনটা নয়। চট্টগ্রামের সন্তান হিসেবে আমি যদি মারা যাই তাহলে কি আমার কবর এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের মধ্যখানে হবে?’

নকশা বহির্ভূত কোনো স্থাপনা বা কবর যেটাই থাকুক না কেন তা সরাতে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানান মোশাররফ হোসেন।

গৃহায়নমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনায় বিভিন্ন সময়ে সংসদ ভবন চত্বরে কবর গড়ে তোলা হয়েছে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় লুই আই কান প্রণীত সকল নকশা পেনসিলভিনিয়া ইউনিভার্সিটি ইউএসএ, আর্কিটেকচারাল আর্কাইভ থেকে সংগ্রহের কাজ প্রক্রিয়াধীন। মর্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে লুই আই কান প্রণীত মূল নকশা আনা হলে তার আলোকে সংসদ ভবনসহ আশেপাশের এলাকার সকল স্থাপনার সুষ্ঠু সংরক্ষণ এবং সমন্বয় করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, বিভিন্ন সরকারের আমলে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় রাষ্ট্রীয়ভাবে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে কবর দেয়া হয়েছে। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরসহ এরকম আটটি কবর সংসদ ভবন এলাকায় রয়েছে। এরা হলেন- সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান ও আতাউর রহমান খান, প্রাক্তন মন্ত্রী মশিউর রহমান যাদু মিয়া, মুসলিম লীগ নেতা খান এ সবুর, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আবুল মনসুর আহমদ এবং পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার তমিজউদ্দীন খান।

এছাড়াও শেরেবাংলা নগরে লুই কানের নকশাবহির্ভূত আরো সাতটি স্থাপনা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র (বিআইসিসি), স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন, চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়ার কবরের চারদিকে থাকা চারটি প্রবেশপথের শুরু বা শেষ প্রান্তে রয়েছে ঝুলন্ত সেতু, সম্মেলন কেন্দ্র ও মসজিদসহ চারটি স্থাপনা।

এদিকে সর্বশেষ গত ২৭ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমদ মারা গেলে তার ইচ্ছা অনুযায়ী সংসদ ভবনের ‘জাতীয় কবরস্থানে’ দাফন করার জন্য জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কাছে অনুমতি চেয়েছিল পরিবার। কিন্তু তাতে সম্মতি দেয়া হয়নি।

এছাড়াও জাতীয় সংসদ ভবন সীমানার পূর্ব প্রান্তে আসাদগেটের উল্টো দিকের পেট্রলপাম্পটি বর্তমানে তুলে দেয়া হয়েছে। এটি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় তখনকার মন্ত্রী মির্জা আব্বাসের ভাইকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল।



মন্তব্য চালু নেই