সৌম্য, মুস্তাফিজের পর এবার আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখছে সেই ছেলেটি

ক্রিকেটে সৌম্য সরকার, মুস্তাফিজুর রহমান এখন উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাদেরকে নিয়ে গর্বিত পুরো দেশ। বিশেষ করে সাতক্ষীরাবাসীর অহংকার তারা। এই দুই ক্রিকেট তারকা সাতক্ষীরার হয়ে আলো ছড়াচ্ছেন বিশ্বব্যাপী। শুধুই কি তাই? পাশাপাশি যোগ হয়েছে আরো একটি নাম। তবে এবার ক্রিকেট নয় ‘ভলিবল’। বাংলাদেশ জাতীয় ভলিবল দলের অধিনায়ক সাতক্ষীরার কৃতিসন্তান সাঈদ আল জাবীর। সাতক্ষীরার হয়ে যিনি আজ আলো ছড়াচ্ছেন বিশ্বব্যাপী।

আগামী ১০ থেকে ২০ জানুয়ারি ভারতের গোহাটি-শিলংয়ে অনুষ্ঠিত হবে এসএ (সাউথ এশিয়ান) গেমস। সেখানে লাল সবুজের প্রতিনিধিত্ব করবেন আল জাবীরের ভলিবল টিম। এখন চলছে নিত্যদিনের রুটিন অনুশীলন। আল জাবীরের ভলিবল টিম নিয়ে আওয়ার নিউজ বিডি’র পাঠকদের জন্য নিচে একটি বিশেষ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হলো:

নিয়ম মেনেই এগিয়ে চলছে ভলিবলের প্রস্তুতি। কাকডাকা ভোরেই বিছানা ছেড়ে অনুশীলনে নেমে পড়েন জাবীর, লিঙ্কনরা। সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত চলে এই অনুশীলন পর্ব। একই নিয়মে আবার সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয়ে চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। প্রতিদিনের রুটিন অনুশীলন। এসএ (সাউথ এশিয়ান) গেমস সামনে রেখে এভাবেই চলছে ভলিবলের প্রস্তুতি।

মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামের জিমে ঘাম ঝরানোর মধ্য দিয়ে প্রাথমিক প্রস্তুতি সারছেন জাতীয় দলের ভলিবল খেলোয়াড়রা। এক মাসের এই অনুশীলনের পরই প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ২১ জনের দলটিকে ছেঁটে নামিয়ে আনা হবে ১৪ জনে। দেশসেরা এই ১৪ খেলোয়াড়ই আগামী ১০ থেকে ২০ জানুয়ারি ভারতের গোহাটি-শিলংয়ে অনুষ্ঠিত ১২তম এসএ গেমসে লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করবেন। স্বর্ণ জয়ের আকাশছোঁয়া স্বপ্ন নিয়ে কোর্টে নামবেন তারা।

ভলিবলের গায়ে আন্তর্জাতিক সাফল্যের ছোঁয়া কালেভদ্রেই লেগেছে। ঘরের মাঠে গত ১১তম এসএ গেমসে ভালো প্রস্তুতির পরও পঞ্চম স্থান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল। তবে এসএ গেমসে যে একেবারেই সাফল্য আসেনি তা কিন্তু নয়। বেশ কয়েকবার দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিক খ্যাত এই আসরে ব্রোঞ্জ পদক জুটেছে। এবারো একই প্রত্যাশা ফেডারেশনের।

এ ব্যাপারে ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) উপ-মহাসচিব, আসন্ন এসএ গেমসে প্লানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আশিকুর রহমান মিকু বলেন, ‘এসএ গেমসে স্বর্ণ জিতব এমনটা বলব না। সর্বোচ্চ ব্রোঞ্জ পদক জেতার কথা বলতে পারি। কারণ ভলিবলে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা খুবই ভালো দল। আর ভারত তো সব সময়ই সেরা। তাদের হারিয়ে স্বর্ণ জেতা মনে হয় না সম্ভব। তবে ব্রোঞ্জ জেতার প্রত্যাশা করছি।’

দেশি কোচের অধীনেই চলছে ভলিবলের প্রস্তুতি। গেমস শুরু হতে এখনো চার মাস বাকি। খেলোয়াড়দের উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশি কোচ আনা হবে কিনা? খেলোয়াড়দের জন্য জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজনের চিন্তাভাবনা ফেডারেশনের রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে মিকু বলেন, ‘দেশি ভালো মানের কোচের অধীনেই এখন প্রশিক্ষণ চলছে। আমরা ইরান ভলিবল ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। সেখান থেকে কোচ আনার চেষ্টা করছি। আর গেমসের আগে কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজনের চিন্তাভাবনা আপাতত নেই। তবে ভারতের চেন্নাইয়ে ভলিবলের একটা ভালো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আছে। খেলোয়াড়দের সেখানে পাঠানোর কথা ভাবছি আমরা। সেখানে গেলে ভারতের কয়েকটা রাজ্যের সঙ্গে খেলার সুযোগ পাবে তারা। তাতে করে নিজেদের অবস্থা সম্পর্কে তারাও একটা ধারণা পাবে।’

খেলোয়াড়দের থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় ব্যবস্থা মিরপুর ক্রীড়া পল্লীতে করা হয়েছে। সেখানেই থাকছেন প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ২১ জন খেলোয়াড়। থাকা-খাওয়ায় খেলোয়াড়দের কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা এর জবাবে মিকু বলেন, ‘ক্রীড়া পল্লীতে খেলোয়াড়রা ভালোই আছে। তাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মিকুর প্রশ্নের সূত্র ধরে একই প্রশ্ন করা হয় ভলিবলে জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্যই মাস্টার্স শেষ করা সাঈদ আল জাবীরকে ‘সকাল-বিকাল দু’বেলার অনুশীলন চলছে। ফিটনেস ট্রেনিং হচ্ছে। আমরা ২১ জন খেলোয়াড় ক্রীড়া পল্লীতে আছি গত জুলাই থেকে। আমাদের থাকা-খাওয়াসহ কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে না।’ বর্তমানে তিতাস ক্লাবের হয়ে খেলা জাবীর গত ২০১০ এসএ গেমসেও দলে ছিলেন। তবে ইনজুরির কারণে কোর্টে নামা হয়নি।

এসএ গেমসে জাতীয় দলের প্রত্যাশা কী? এর জবাবে জাবীর বলেন, ‘স্বর্ণ জেতাই আমাদের লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমরা অনুশীলন করে যাচ্ছি।’ ক্রিকেটে সৌম্য সরকার, মুস্তাফিজুর রহমানের পর ভলিবলে সাতক্ষীরা জেলার হয়ে আলো ছড়াচ্ছেন জাবীর। দলে ইউনিভার্সাল ভূমিকা পালন করা জাবীর চান ভলিবলকে যেন ক্রিকেট, ফুটবলের মতো পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়। তাতে জনপ্রিয় এ খেলাটি আরো জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে দেশবাসীর জন্য অনেক অনেক সাফল্য বয়ে আনবে বিশ্বাস জাবীরের।

আরো পড়ুনঃ

নিভৃত পল্লীর সেই ছেলেটি এখন জাতীয় দলের অধিনায়ক



মন্তব্য চালু নেই