সিরাজগঞ্জ পৌর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা সুজন খুন

হত্যা দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে তার স্ত্রী তিথি খাতুন

সিরাজগঞ্জ পৌর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা সুজনকে হত্যা দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে তার স্ত্রী তিথি খাতুন। বুধবার বিকেলে পুলিশ তিথি ও তার ভাই পিয়াসকে সিরাজগঞ্জ সিনিয়ন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুপ্রিয়া রহমানের আদালতে হাজির করেন। এসময় তিথি স্বামী হত্যার সাথে নিজে জড়িত ছিলেন বলে আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দিয়েছেন আদালতে।

গত সোমবার সন্ধ্যার পর সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার মালশাপাড়া মহল্লায় নিজ বাড়িতে সিরাজগঞ্জ পৌর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা সুজনকে চাপাতি দিয়ে জবাই করে হত্যা করা হয়। এঘটনায় নিহতের স্ত্রী তিথি খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। রাতে নিহত যুবদল নেতার মা মাজেদা সামাদ নিহতের স্ত্রী তিথি খাতুন, ভাই পিয়াস, শ্বাশুড়ি রাবেয়া বেগম ও শ্বশুর গোলাম রহমানের নাম উল্লেখ করে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় মামলা মামলা দায়েরের জন্য আবেদন করেন। মামলা দায়েরের পর শ্যালক পিয়াসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার বিকেলে আদালতে হাজির করলে স্বাীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয় তার স্ত্রী।

পুলিশ, নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, নিহত যুবদল নেতা সুজন । স্ত্রী কন্যা নিয়ে সে শহরের মিরপুর মহল্লার বিরালা কুঠি এলাকায় ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন। তিনি ডিস এ্যন্টিনা (ক্যাবল অপারেটর) ব্যবসা করতেন। এই ব্যবসা তার স্ত্রীর নামে মালিকানা লিখে দিতে তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলোহ লেগেই থাকতো। একপর্যায়ে নিহত যুবদল নেতা তার স্ত্রী তিথি খাতুনের নামে তার ক্যাবল ব্যবসার অর্ধেক মালিকানা লিখে দেয়। কিছুদিন পর বাকি অংশ দিখে দেয়ার জন্য তাকে প্রায়াই চাপ সৃষ্টি করে। এনিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো। নিহত সুজনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক একাধিক মামলা থাকায় পুলিশি গ্রেফতার এড়াতে সে অধিকাংশ সময় পলাতক ছিলো।

মাঝে মধ্যে তার নিজ বাড়িতে (মালশাপাড়া মহল্লায়) পালিয়ে দেখা করতে আসতেন। গত বুধবার সন্ধ্যায় সুজন বাড়িতে আসলে তাকে জুস খেতে দেয় তার স্ত্রী। জুস খেয়ে সে ঘুমিয়ে পড়ে। এই সুযোগে তাকে চাপাতি দিয়ে জবাই করে হত্যা করে স্ত্রী ও তার সহযোগিরা পালিয়ে যায়। পরে তিনি বাড়ির লোকজনকে জানান যে কেউ সুজনকে হত্যা করবে বলে মোবাইল ফোনে তাকে হুমকী দিয়েছে। সন্ধ্যার পর নিহত যুবদল নেতার শিশু কন্যা সুতি খাতুন প্রাইভেট শেষে বাড়ি ফিরে ঘরের দরজা ধাক্কা দিলে তার পিতার জবাই করা লাশ দেখতে পায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে লাশ উদ্ধার করে।

নিহত যুবদল নেতার ছোট ভাই আরিফ হোসেন জানান পরিকল্পিত আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। তাকে জুসের মধ্যে চেতনানাশক দ্রব্য দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে ৪ জনকে আসামী করে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ হত্যার সাথে জড়িত তার স্ত্রী ও শ্যালককে গ্রেফতার করেছে।



মন্তব্য চালু নেই