মেইন ম্যেনু

গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ জানাচ্ছে সরকারি ওয়েবসাইট!

গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে, তা জানার সহজ উপায় জানিয়ে দিচ্ছে খোদ পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে সব খবরের মধ্যে একটি খবর হচ্ছে, ‘সহজ পরীক্ষায় জেনে নিন সন্তান ছেলে হবে না মেয়ে? জেনে রাখুন কাজে লাগবে?’

তবে প্রশ্ন হচ্ছে, সরকারের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এ ধরনের তথ্য জানাতে পারে কি না। সরকারের স্লোগান হচ্ছে, ছেলে হোক মেয়ে হোক, দুটি সন্তানই যথেষ্ট।

অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের সব খবরে শুধু শিরোনামটি দেওয়া। সেখানে ক্লিক করলে `Bissoy Answers’ এর ওয়েবসাইটে গিয়ে উত্তর জানার সুযোগ রয়েছে। উত্তর দিয়েছেন আরিফুল ইসলাম। তিনি বিস্ময় ডট কমের প্রতিষ্ঠাতা। ইন্টারনেট ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট হিসেবে তরুণ উদ্যোক্তাদের সাপোর্টিং রোল মডেল হিসেবেও কাজ করছেন। এ ওয়েবসাইটে তাঁর সদস্যের ধরন প্রশাসক। প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা, উত্তর অপছন্দ করাসহ প্রায় সব দায়িত্বই তিনি পালন করেন।

.সরকারের ওয়েবসাইটে এ ধরনের তথ্য আছে এবং আরিফুল ইসলাম নামের একজন উত্তর দিয়েছেন, প্রতিবেদকের মুখে এ কথা শুনে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন নিজেই ‘বিস্ময়’ প্রকাশ করেছেন।

গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে, এ বিষয়ের উত্তর দিতে গিয়ে আরিফুল ইসলাম প্রথমেই লিখেছেন, শিশুটি ছেলে নাকি মেয়ে হবে? এটি প্রায় সবার জন্য একটি মজাদার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। ২০ সপ্তাহের আগে শিশুটির লিঙ্গ সম্পর্কে চিকিৎসক জানাতে পারেন না। এ সময়ের আগেই আলট্রাসনোগ্রাম না করে কীভাবে জানা যাবে গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ পরিচয়, তা–ই তিনি জানিয়েছেন।

গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণের বিষয়টিকে আরিফুল ইসলাম মজাদার বিষয় হিসেবে উল্লেখ করলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রেজাউল করিম কাজল বিষয়টি শুনে আঁতকে উঠেছেন। তিনি বলেন, ভারতে আইন অনুযায়ী, গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ কেউ জানতে চাইলে চার বছরের জেল হয়। আর যিনি লিঙ্গ সম্পর্কে জানান, তাঁর ১০ বছরের জেল হয়। বাংলাদেশে সে ধরনের আইন বা নীতি নেই। তবে চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সামাজিক বাস্তবতার কথা চিন্তা করে গর্ভের সন্তানের ‘লিঙ্গ’ প্রকাশ করেন না। বাবা বা মা বেশি অনুরোধ করলে বাচ্চা উল্টে আছে, লিঙ্গ বোঝা যাচ্ছে না বলে পাশ কাটিয়ে থাকেন।

রেজাউল করিম বলেন, ‘প্রথম সন্তান মেয়ে বা পরপর কয়েকটি সন্তান মেয়ে হলে পরিবারের সদস্যরা ওই মাকে দোষারোপ করতে থাকেন। ছেলেসন্তানের জন্ম দিতে না পারার কারণে মা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পরিবারে তাঁর যত্ন কমে যায়। মা নিজেও নিজের যত্নে অবহেলা করেন। গর্ভের সন্তান অপুষ্টিতে ভুগতে থাকে। ওই মায়ের ওপর অন্যান্য নির্যাতনও নেমে আসে। তাই হিমোফেলিয়াসহ শুধু কিছু রোগের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে লিঙ্গ নির্ধারণ করা হয়।’

গতকাল বুধবার রাতে টেলিফোনে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন বলেন, ‘কী মুশকিল। ওয়েবসাইটে এই তথ্য তো আসতেই পারে না।’ বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি। সূত্র: প্রথম আলো।






মন্তব্য চালু নেই