মেইন ম্যেনু

‘ISIS জঙ্গিরা আমাদের গোপন অংশে হাত দিচ্ছিল’

ISIS জঙ্গিদের হাতে অপহরণের পর মুক্তি পেয়ে নিজের বইতে অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন জিনান। তার বইয়ে তিনি লিখেছেন “অপহরণ করার পর আমাদের ধর্ম পরিবর্তনে বাধ্য করা হয়। রাজি না হলে, শিকলে বেঁধে মরা ইদুর পড়ে থাকা পাত্রে জল খেতে বাধ্য করা হয়।” গতবছর ISIS-এর হাতে বন্দি থাকাকালীন নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে একটি বই প্রকাশ করেছেন এই অষ্টাদশী। আর তাতেই উঠে এসেছে ভয়ংকর সব অত্যাচারের অভিজ্ঞতা।

ISIS-এর কবল থেকে কোনমতে পালাতে পেরে ইয়াজ়িদিদের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন জিনান। সেখানে মিলিত হন স্বামীর সঙ্গে। কিন্তু, এরপরও নিজের বাড়ি ফিরে যেতে ভয় জিনানের মতো যুবতিদের। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “আমরা জানি, বাড়ি ফিরলে একঘরে হয়ে যাব। তাই আমাদের নিজস্ব একটা এলাকা চাই। যেখানে ISIS-এর ভয় থাকবে না।”

খ্রিস্টান ও ইয়াজ়িদি মহিলাদের অপহরণ করে যৌনদাসী হিসেবে ISIS-এর বিক্রি করে দেওয়ার খবর আগেই প্রকাশ পেয়েছে। এবার জিনানের মাধ্যমে সামনে এল ISIS-এর হাতে বন্দিদের বিভীষিকাময় জীবন। ২০১৪ সালে ৩ মাস ISIS-এর হাতে বন্দি ছিলেন জিনান। নিজের বইতে সেসময়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতেই এই উদ্যোগ তাঁর। ISIS সদস্যদের নৃশংসতার উদাহরণ দিতে গিয়ে বছর ১৮-র জিনান লিখেছেন, “এরা মানুষ নয়। সবসময় হত্যা নিয়েই ভাবে। প্রতিমুহূর্তে মাদকে আসক্ত থাকে ISIS-র সদস্যরা। এদের লক্ষ্য একদিন গোটা পৃথিবীতে শাসন করবে ISIS।”

খ্রিস্টান ও ইয়াজ়িদি মহিলাদের বন্দি করার পর কীভাবে তাঁদের যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়, তার উল্লেখ রয়েছে জিনানের বইতে। জিনান জানিয়েছেন, “একদিন মসুল শহরের একটা বাড়ির বড় হলঘরে আমাদের নিয়ে আসা হয়। আগে থেকেই এক ডজনের উপর মহিলা উপস্থিত ছিলেন। ISIS জঙ্গিরা আমাদের শরীরে গোপন অংশে হাত দিচ্ছিল। আর সঙ্গে উড়ে আসছিল অশ্লীল মন্তব্য।” জিনানের বইতে উঠে এসেছে, শুধুমাত্র দিনার বা ডলার নয়, অনেক সময় বন্দুকের পরিবর্তেও বিক্রি করা হতো বন্দি তরুণী, কিশোরীদের।

সিরিয়া, টার্কি বা মধ্যপ্রাচের দেশগুলির ক্রেতারা ছাড়া অন্য কেউ ৩ জনের বেশি যৌনদাসী কিনতে পারে না। অনেকে আবার আন্তর্জাতিক মানের খাবারের পরিবর্তে যৌনদাসীর কেনার সংখ্যা বাড়িয়ে নেয়।






মন্তব্য চালু নেই